গল্পের পোকা
হোম>ইসলামিক গল্প

হযরত নূহ (আ.) ও বিশাল নৌকা

👤লেখক: গল্পের পোকা
|
🕒৩ মিনিট পড়ার সময়
|
📁ইসলামিক গল্প
হযরত নূহ (আ.) ও বিশাল নৌকা — ছবি 1

অনেক অনেক দিন আগের কথা। হযরত নূহ (আ.) ছিলেন আল্লাহর একজন প্রিয় নবী। তিনি তাঁর জাতির মানুষদের ভালো কথা শেখাতেন এবং আল্লাহর পথে ডাকতেন।

কিন্তু তাঁর জাতির অনেক মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। তারা নিজের হাতে তৈরি করা মূর্তিগুলোর পূজা করত।

হযরত নূহ (আ.) তাঁদের খুব সুন্দর করে বোঝাতেন।

হযরত নূহ (আ.) ও বিশাল নৌকা — ছবি 2

তিনি বলতেন, “প্রিয় মানুষজন, তোমরা শুধু আল্লাহর ইবাদত করো। আল্লাহ আমাদের আকাশ দিয়েছেন, পৃথিবী দিয়েছেন, আর কত সুন্দর সুন্দর জিনিস সৃষ্টি করেছেন!”

তিনি একদিন নয়, দুদিন নয়—শত শত বছর ধরে মানুষকে বোঝাতে থাকলেন। দিনেও বোঝাতেন, রাতেও বোঝাতেন। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তাঁর কথা শুনত না।

হযরত নূহ (আ.) ও বিশাল নৌকা — ছবি 3

বরং তারা তাঁকে দেখে হাসাহাসি করত। কেউ কেউ আবার দুই হাতে কান ঢেকে ফেলত!

তবুও হযরত নূহ (আ.) ধৈর্য হারালেন না। তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তাঁর কাজ করে যেতে থাকলেন।

একদিন আল্লাহ হযরত নূহ (আ.)-কে একটি বিশেষ নির্দেশ দিলেন।

তাঁকে একটি বিশাল নৌকা তৈরি করতে হবে। আর সেই নৌকা তৈরি করতে হবে সমুদ্র থেকে অনেক দূরে!

হযরত নূহ (আ.) আল্লাহর নির্দেশ মেনে নৌকা বানাতে শুরু করলেন।

হযরত নূহ (আ.) ও বিশাল নৌকা — ছবি 4

ঠক! ঠক! ঠক!

কাঠ জোড়া লাগিয়ে তিনি ধীরে ধীরে বিশাল নৌকাটি তৈরি করতে লাগলেন।

এদিকে লোকজন তাঁকে দেখে অবাক হতো। তারপর হাসতে হাসতে বলত,

“এ কী! এখানে তো কোনো সমুদ্র নেই! তাহলে নৌকা দিয়ে কী হবে?”

আরেকজন বলত, “হা হা! মরুভূমিতে নৌকা বানানো হচ্ছে!”

কিন্তু হযরত নূহ (আ.) তাঁদের কথায় মন খারাপ করে থেমে গেলেন না। তিনি জানতেন, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই তিনি ধৈর্য ধরে নৌকা তৈরি করতে থাকলেন।

হযরত নূহ (আ.) ও বিশাল নৌকা — ছবি 5

অবশেষে বিশাল নৌকাটি তৈরি হয়ে গেল।

তারপর একদিন আকাশে জমল কালো মেঘ। শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি!

ঝমঝম! ঝরঝর!

আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়তেই থাকল। পানি বাড়তে লাগল চারদিকে।

আল্লাহর নির্দেশে হযরত নূহ (আ.) বিশ্বাসী মানুষদের নৌকায় তুলে নিলেন। তিনি আরও প্রত্যেক ধরনের প্রাণীর এক জোড়া করে নৌকায় উঠিয়ে নিলেন।

ভাবো তো, নৌকার ভেতরে কত রকমের প্রাণী ছিল!

তারপর পানি আরও বাড়তে লাগল।

হযরত নূহ (আ.) ও বিশাল নৌকা — ছবি 6

বিশাল নৌকাটি পানির ওপর ভেসে উঠল।

দুলছে নৌকা, উঠছে-নামছে পানি!

কিন্তু আল্লাহর রহমতে নৌকার ভেতরে থাকা বিশ্বাসী মানুষ ও প্রাণীরা নিরাপদে রইল।

যারা হযরত নূহ (আ.)-এর কথা বিশ্বাস করেনি এবং তাঁর সতর্কবাণী শুনতে চায়নি, তারা রক্ষা পেল না।

কুরআনে এই ঘটনার কথা

পবিত্র কুরআনের সূরা হূদের ৩৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হযরত নূহ (আ.) নৌকা তৈরি করার সময় তাঁর জাতির নেতারা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করত। তখন তিনি তাদের বলেছিলেন, তারা যেমন তাঁদের নিয়ে ঠাট্টা করছে, তেমনি তাদের ঠাট্টার পরিণতি তারা বুঝতে পারবে।

গল্পের শিক্ষা

সবাই হাসাহাসি করলেও সঠিক কাজ ছেড়ে দিও না।

হযরত নূহ (আ.) আমাদের শেখান—ধৈর্য ধরতে হয়, ভালো কাজ করে যেতে হয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হয়।

মানুষ কী বলল, তা নিয়ে মন খারাপ না করে সঠিক পথে চলার চেষ্টা করো। আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলো এবং সব সময় ভালো কাজ করো। "

গল্পের শিক্ষা

সবাই হাসাহাসি করলেও সঠিক কাজ ছেড়ে দিও না। হযরত নূহ (আ.) আমাদের শেখান—ধৈর্য ধরতে হয়, ভালো কাজ করে যেতে হয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হয়। মানুষ কী বলল, তা নিয়ে মন খারাপ না করে সঠিক পথে চলার চেষ্টা করো। আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলো এবং সব সময় ভালো কাজ করো। "

Footer Scenery