
একদিন এক সিংহ শিকারে বের হলো।
তার সঙ্গে ছিল শিয়াল, নেকড়ে আর আরও একজন শিকারি সঙ্গী।
চারজন মিলে জঙ্গলের এদিক-ওদিক ঘুরতে লাগল।
অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর হঠাৎ তারা একটি বড় হরিণ দেখতে পেল!
"ওই যে! হরিণ!" — সবাই চিৎকার করে উঠল।

তারপর সবাই মিলে হরিণটিকে ধরল।
শিকার হয়ে গেল!
এবার শুরু হলো আসল সমস্যা—
হরিণের মাংস কে কতটা পাবে?
সিংহ গম্ভীর গলায় গর্জে উঠল,
"এই হরিণটাকে চার ভাগে ভাগ করো!"

শিয়াল আর নেকড়ে মিলে হরিণটিকে চারটি সমান ভাগে ভাগ করে দিল।
তারপর সিংহ চারটি ভাগের সামনে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলল,
"শোনো সবাই! এবার আমি ঠিক করে দিচ্ছি কে কতটা পাবে।"
"প্রথম ভাগটা আমার। কারণ আমি এই জঙ্গলের রাজা! "
"দ্বিতীয় ভাগটাও আমার। কারণ এই শিকারের বিচারকও আমি!"

"তৃতীয় ভাগটাও আমার। কারণ শিকার ধরতে আমিও পরিশ্রম করেছি!"
তারপর সিংহ চতুর্থ ভাগটির দিকে তাকাল।
সে দাঁত বের করে বলল,
"আর এই শেষ ভাগটা..."
সিংহ একটু থামল।
তারপর গর্জে উঠল—
"এই ভাগে কে থাবা দিতে সাহস করে, সেটাই আমি দেখতে চাই!"

শিয়াল তখন চুপচাপ নিজের লেজটা গুটিয়ে নিল।
সে ধীরে ধীরে সেখান থেকে চলে যেতে লাগল।
যেতে যেতে নিচু গলায় বলল,
"হুঁ! বড়দের সঙ্গে পরিশ্রম করলে কাজের ভাগ পাওয়া যায় ঠিকই... কিন্তু পুরস্কারের ভাগ পাওয়া যায় না!"

গল্পের শিক্ষা
শুধু বড় বা শক্তিশালী কারও সঙ্গে কাজ করলেই তার পুরস্কারে সমান ভাগ পাওয়া যায় না। তাই কারও সঙ্গে কাজ করার আগে ন্যায্য ভাগ ও নিয়ম ঠিক করে নেওয়া ভালো।





