
একদিন এক নেকড়ে খুব মজা করে খাবার খাচ্ছিল।
সে বেশ পেট ভরে একটা শিকার করা প্রাণীর মাংস খাচ্ছিল।
হঠাৎ—
"খক! খক!"
একটা ছোট্ট হাড় তার গলায় আটকে গেল!
নেকড়ে হাড়টা গিলতেও পারছে না, বেরও করতে পারছে না।
তার গলা ভীষণ ব্যথা করতে লাগল।
"উফফ! কী বিপদ!"
সে এদিক-ওদিক ছুটতে লাগল আর কাতর হয়ে বলতে লাগল,
"কেউ কি আমার গলার হাড়টা বের করে দিতে পারবে?"
যাকেই দেখছে, তাকেই বলছে,
"দয়া করে হাড়টা বের করে দাও! তুমি যা চাইবে, আমি তাই দেব!"
কিন্তু কেউই নেকড়ের কাছে যেতে সাহস পেল না।
অবশেষে একটি সারস সেখানে এল।
সারস বলল,
"আচ্ছা, আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি।"
নেকড়ে তাড়াতাড়ি বলল,
"হ্যাঁ! হ্যাঁ! তুমি শুধু হাড়টা বের করে দাও!"
সারস বলল,
"তাহলে মুখটা বড় করে খোলো। আর একদম নড়বে না!"
নেকড়ে তার বড় বড় চোয়াল খুলে—
"আ-আ-আ!"
সারস তার লম্বা গলা নেকড়ের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিল।
তারপর ঠোঁট দিয়ে ধীরে ধীরে হাড়টাকে নাড়াতে লাগল।
একটু চেষ্টা...
আরও একটু চেষ্টা...
অবশেষে—
টুপ!
হাড়টা বেরিয়ে এল!
নেকড়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
"আহ্! এবার শান্তি!"
সারস খুশি হয়ে বলল,
"নেকড়ে ভাই, এবার তুমি যে পুরস্কারের কথা বলেছিলে, সেটা দাও।"
নেকড়ে তখন দাঁত বের করে মুচকি হাসল।
সে বলল,
"পুরস্কার? তোমার তো অনেক বড় পুরস্কার হয়ে গেছে!"
সারস অবাক হয়ে বলল,
"কীভাবে?"
নেকড়ে বলল,
"তুমি তোমার মাথাটা একটা নেকড়ের মুখের ভেতর ঢুকিয়েছিলে..."
"তারপর আবার নিরাপদে মাথাটা বের করে নিয়ে এসেছ!"
"এটাই তো তোমার জন্য যথেষ্ট পুরস্কার!"
সারস বুঝল, নেকড়ে তাকে পুরস্কার দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই রাখে না।
সে চুপচাপ সেখান থেকে চলে গেল।

গল্পের শিক্ষা
লোভী আর অকৃতজ্ঞ মানুষের কাছ থেকে উপকারের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা আশা করা ঠিক নয়। যে সাহায্য পায়, তার উচিত সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া এবং প্রতিশ্রুতি রাখা।





