একদিন এক কৃষক তার গোয়ালঘরে গেলেন।
তিনি সেখানে থাকা তার সব কাজের পশুদের দেখতে লাগলেন।
তাদের মধ্যে একটি গাধা ছিল কৃষকের খুব প্রিয়।
কৃষকের সঙ্গে তার ছোট্ট কোলে-কুকুরটিও ছিল।
কুকুরটি কৃষককে দেখেই—
লাফায়, দৌড়ায়, লেজ নাড়ে!
কখনো কৃষকের হাত চাটে, আবার কখনো আনন্দে চারপাশে ঘুরতে থাকে।
কৃষকও কুকুরটিকে খুব আদর করলেন।
তিনি পকেট থেকে একটু সুস্বাদু খাবার বের করে কুকুরটিকে দিলেন।
তারপর কৃষক বসে তার ছেলেদের কিছু কাজের কথা বলতে লাগলেন।
কুকুরটি তখন কী করল জানো?
ঝপাং!
লাফ দিয়ে কৃষকের কোলে উঠে গেল!
তারপর আরামে শুয়ে চোখ পিটপিট করতে লাগল।
কৃষক হেসে হেসে কুকুরটির কান চুলকে দিতে লাগলেন।
দূর থেকে গাধাটি সব দেখছিল।
সে মনে মনে ভাবল,
"আরে! কুকুরটা এমন করেই তো কৃষকের আদর পাচ্ছে!"
"আমিও যদি ওর মতো করি, তাহলে আমিও নিশ্চয়ই অনেক আদর পাব!"
ব্যস!
গাধাটি তার দড়ি ছাড়িয়ে ফেলল।
তারপর শুরু করল—
ধুপধাপ! লাফালাফি! দৌড়াদৌড়ি!
সে কুকুরটির মতো করে কৃষকের কাছে ছুটে গেল।
কৃষক গাধার কাণ্ড দেখে হেসেই ফেললেন।
কিন্তু গাধা তাতেই থামল না!
সে কৃষকের কাছে গিয়ে সামনের পা দুটো কৃষকের কাঁধের ওপর তুলে দিল।
তারপর চেষ্টা করল—
কৃষকের কোলে উঠতে!
কৃষক তো অবাক!
"আরে! এ কী করছিস?"
কৃষকের ছেলেরা দৌড়ে এল।
তারা গাধাটিকে সরিয়ে দিল এবং বুঝিয়ে দিল যে এভাবে দুষ্টুমি করা একদম ঠিক নয়।
গাধা তখন বুঝল,
"উফ! কুকুর যা করে, আমি সেটা করলেই যে সবাই খুশি হবে—এমন তো নয়!"

গল্পের শিক্ষা
অন্যকে দেখে না বুঝে তার কাজ নকল করা ঠিক নয়। যে কাজ একজনের জন্য মজার, সেটাই অন্যের জন্য বিপজ্জনক বা বিরক্তিকর হতে পারে। তাই কিছু করার আগে ভাবো— "আমি যা করছি, সেটা কি সত্যিই ঠিক?"






